রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

এ যেন শায়েস্তা খানের আমল!

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দিনাজপুর: মাত্র ১ টাকায় পিঁয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ, সিঙ্গাড়ার মতো মুখরোচক খাবার এমনকি ডিম চপ পাওয়া যায়। আর পাবেন ৫ টাকায় কফি, ১০ টাকায় মোগলাই পরোটা ও ১৫ টাকায় হালিম। ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার। অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব। এই ধরনের দোকান বর্তমানে রয়েছে দিনাজপুর জেলা শহরে। এ যেন সায়েস্তা খানের আমল! মাত্র ১ টাকায় জিভে পানি আসার মতো এসব মুখরোচক খাবার খেতে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন, ক্রয় করেন লাইন দিয়ে।

দিনাজপুর শহরের বোস্তান সিনেমা হলের গলিতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা, চকবাজারে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, স্টেশন রোড ও মর্ডান মোড়ে গাউসতলা জামে সমজিদের গলিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এবং জেল রোডে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বসে এই মুখরোচক খাদ্যের দোকানগুলো। তবে সন্ধ্যার পরেই দোকানের বেচাবিক্রি ভালো জমে। ওই সময়টাতেই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অনেকেই আসেন। গল্পের সাথে সাথে চলে মুখরোচক খাবার গ্রহণ। à§« থেকে  à§ªà§¦ বছর ধরে চলে আসছে এই দোকানগুলো। বোস্তান সিনেমা হলের গলিতে ৯ ধরনের মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়, আর শীতকালীন সময়ে তা বেড়ে যায় à§§à§© থেকে ১৪টিতে। এছাড়াও চক বাজারে à§§ টাকায় সিংড়া, মর্ডান মোড়ে গাউসতলা জামে সমজিদের গলিতে ১০ টাকায় মোগলাই পরোটা, লিলি মোড় ও জেল রোডে à§§à§« টাকায় হালিম ও স্টেশন রোডে পাওয়া যায় à§« টাকায় কফি।

বোস্তান সিনেমা হলের গলিতে সরেজমিন এই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা লাইন দিয়ে ক্রয় করছেন মুখরোচক খাবার। সেখানে নেই কোন বসার জায়গা, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। তারপরও ক্রেতাদের ভিড় বেশ লক্ষণীয়। এখানে পিঁয়াজু, ডিমচপ, মরিচ চপ, কালাই বড়া, বেগুনী, রসুন, সবজি চপ, মাশরুম চপ, আলুর চপ পাওয়া যায়। প্রতিটির দাম মাত্র ১ টাকা। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে সাত মিশালীতে। সাত মিশালীর সর্বনিম্ন দর ৫ টাকা। এই দোকানের মালিকের নাম নুর ইসলাম। তার সাথে সহযোগী বা কর্মচারী হিসেবে রয়েছেন শাহ আলম, রমজান আলী ও সুমন নামে আরও ৩ জন। বেচাবিক্রি ও কাজের ফাকে কথা বলার সময় তার নেই। এরই মধ্যে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, গত ৪০ বছর ধরে তিনি এই দোকানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তখন থেকেই তার মধ্যে চিন্তা আসে কম দরে মুখরোচক খাবার বিক্রির, যাতে করে লাভ কম হলেও বেচাকেনা বেশি হবে। আর তখন থেকেই শুরু, যা চলছে অদ্যাবধি। তবে প্রথম ১০ বছর তৈরি করতেন শুধুমাত্র সাতমিশালী। তিনি জানান, এখন ৮ প্রকারের মুখরোচক খাবার তৈরি করেন তিনি। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে তা আরও বেড়ে যায়। ওই সময়ে ফুলকপি চপ, সিম চপ, পটল চপসহ অন্যান্য সবজির চপ তৈরি করেন তিনি। সবকিছুর দাম রেখেছেন ১ টাকা করে। তবে বর্তমানে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রসুন ২ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর মাশরুম বাজারে সচরাচর না পাওয়ায় সেটির দামও ২ টাকা করা হয়েছে। তিনি জানান, তার বাড়ি শহরের কাঞ্চন কলোনী এলাকায়। এই দোকান করেই তিনি সচ্ছলতার সাথে সংসার পরিচালনা করছেন। তার ৪ মেয়ে। লেখাপড়া শিখিয়ে ৩ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আর ছোট মেয়ে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছে কলেজে। আয় রোজগারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন এখানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়। এতে যে লাভ আসে তা ৩ কর্মচারীকে দিয়েও সচ্ছলভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারেন তিনি। কমমূল্যে মুখরোচক খাবার পাওয়া ছাড়া এমন কি আছে যাতে করে ক্রেতারা এখানে ভিড় জমায়? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে ১ টাকায় এমন মুখরোচক খাবার পাওয়া সম্ভব না। তাছাড়া আরেকটি দিক হলো এখানে যে তেলে এসব জিনিস ভাজা হয় তা মানসম্মত ও একদিনের তেল পরের দিন ব্যবহার করা হয় না। যার ফলে এসব ভাজাপোড়া খেলে মানুষের যে গ্যাস ও পেটের সমস্যা হয় তা হবে না। আর এই দিকটি দেখেই অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসেন এখানে। দোকানটির কর্মচারী রমজান আলী জানান, একটি ডিমকে ১০ থেকে ১২টি ভাগ করে চপ তৈরি করা হয়। আকারে ছোট হলেও তবে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে এই ডিম চপের চাহিদা এখানে অনেক বেশি। তিনি জানান, দিনের অর্ধেক সময়ে এখানে কাজ করে যা পান তা অনেক বেশি। অন্য কোথাও এই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে না। তাই নিজের মতো করে কাজ করেন এখানে। এ সময় কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে। এম.আর মিজান নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে এসেছেন। কাজের ফাঁকে প্রায় প্রতিদিনই নুর ইসলাম মামার এসব ভাজাপোড়া কেনা হয়। তিনি বলেন, নিজে তো খাই, যাবার সময় বাড়ির লোকজনের জন্যও নিয়ে যাই। রবিউল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, অন্য জায়গাতে এসব ভাজাপোড়া খেলে পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু এখানে খেলে নিশ্চিত থাকা যায় যে কোন সমস্যা হবে না। তাছাড়া প্রতিটির পিচ ১ টাকা, যা একটি আকর্ষণীয় ব্যাপার বলে জানান তিনি। এছাড়াও চকবাজারে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাওয়া যায় ১ টাকায় সিঙ্গাড়া, স্টেশন রোডে পাওয়া যায় ৫ টাকায় কফি, মর্ডান মোড়ে গাউসতলা জামে সমজিদের গলিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাওয়া যায় ১০ টাকায় মোগলাই পরোটা এবং জেল রোডে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বসে এই মুখরোচক খাদ্যের দোকানগুলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ